সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় অংশগ্রহণ (যেমন—পোস্ট করা, মন্তব্য করা বা শেয়ার করা) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম (Ofcom) এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী এর প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ: অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন অনলাইনে কোনো কিছু পোস্ট করা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বিড়ম্বনা বা ঝুঁকির কারণ হতে পারে [০.৪.১২]। এটিকে তারা ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের চেয়ে একটি সম্ভাব্য দায়বদ্ধতা (Potential Liability) হিসেবে বেশি দেখছেন [০.৪.১২]।
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা: মানুষ এখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে সবার সামনে কথা বলার চেয়ে ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপ বা ছোট গ্রুপে যোগাযোগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন [০.৪.১২]। অর্থাৎ সামাজিক মাধ্যম এখন "কম পাবলিক" বা বেশি ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে।
- অনলাইন হয়রানি ও নেতিবাচকতা: সাইবার বুলিং, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং অনলাইনে মানুষের রূঢ় আচরণের কারণে অনেকে দূরে সরে যাচ্ছেন [০.৪.১৪]। অফকম-এর মতে, প্রায় ৪৩% ব্যবহারকারী মনে করেন অনলাইনে মানুষ প্রায়ই নিষ্ঠুর আচরণ করে [০.৪.১৪]।
- অ্যালগরিদম ক্লান্তি (Algorithmic Fatigue): অনবরত স্ক্রল করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কন্টেন্টের আধিক্যের কারণে অনেক ব্যবহারকারী ক্লান্ত বোধ করছেন [০.৪.১৩]। তারা এখন কেবল সময় নষ্ট না করে আরও অর্থবহ এবং মানবিক ডিজিটাল অভিজ্ঞতা খুঁজছেন [০.৪.১৩]।
- স্ক্রিনটাইম নিয়ে সচেতনতা: নিজেদের স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল ব্যবহারের সময় নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এবং পর্যাপ্ত ঘুম বা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়তে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছেন [০.৪.১, ০.৪.২]।
- এআই (AI) টুলের দিকে ঝুঁকে পড়া: বর্তমানে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন [০.৪.১, ০.৪.১২]।
সংক্ষেপে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর কেবল বিনোদনের জায়গা নয়, বরং নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তির খাতিরে প্রাপ্তবয়স্করা এখান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন